পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পার্সেল আনার নিয়ম

পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পার্সেল আনার নিয়ম

 পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পার্সেল আনার নিয়ম-পার্সেল হলো এক ধরনের পণ্য বা জিনিসপত্র যা একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য কুরিয়ার বা ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়। পার্সেল সাধারণত একটি বাক্স, প্যাকেট, বা থলিতে মোড়ানো থাকে। 

আরো পড়ুন - গিয়ার সাইকেল দাম কত | সাইকেলের ছবি ও দাম ২০২৪

হাইব্রিড বাই সাইকেল | সাইকেল দাম বাংলাদেশ ২০২৪

মোটা চাকার সাইকেল দাম বাংলাদেশ  ২০২৪

হিরো সাইকেলের ছবি ও দাম বাংলাদেশ ২০২৪

লেডিস সাইকেল এর দাম কত

পার্সেলের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্য থাকতে পারে, যেমন কাপড়, খাবার, বই, যন্ত্রপাতি, ইত্যাদি।বাংলাদেশে পার্সেল পাঠানোর জন্য বিভিন্ন কুরিয়ার কোম্পানি রয়েছে। এছাড়াও, ডাক বিভাগও পার্সেল পাঠানোর সেবা প্রদান করে। 

পার্সেল পাঠানোর জন্য প্রথমে প্রেরককে কুরিয়ার কোম্পানি বা ডাক বিভাগের কাছে গিয়ে একটি পার্সেল বুক করতে হবে।

 এরপর, প্রেরককে পার্সেলের মধ্যে থাকা পণ্য সম্পর্কে একটি বিবরণ এবং প্রাপক সম্পর্কে তথ্য দিতে হবে। এরপর, প্রেরককে পার্সেলের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হবে। কুরিয়ার কোম্পানি বা ডাক বিভাগ পার্সেল গ্রহণের পর তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেবে।

 ডাকযোগে চিঠি পাঠাতে কতদিন সময় লাগে

বাংলাদেশে ডাকযোগে চিঠি পাঠাতে কতদিন সময় লাগবে তা নির্ভর করে চিঠিটি কোন স্থান থেকে কোন স্থানে পাঠানো হচ্ছে তার উপর। সাধারণত, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চিঠি পাঠাতে ৩-৫ দিন সময় লাগে। তবে, যদি চিঠিটি দূরবর্তী এলাকায় পাঠানো হয় তবে সময়টা আরও বেশি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা থেকে সিলেটে চিঠি পাঠাতে ৫-৭ দিন সময় লাগতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে চিঠি পাঠাতে আরও বেশি সময় লাগে। সাধারণত, বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে চিঠি পাঠাতে ১০-১৫ দিন সময় লাগে। তবে, কিছু দেশে চিঠি পাঠাতে ২-৩ সপ্তাহও সময় লাগতে পারে।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ইএমএস (Express Mail Service) এর মাধ্যমে চিঠি পাঠালে তা আরও দ্রুত পৌঁছানো যায়। ইএমএস এর মাধ্যমে চিঠি পাঠাতে ২-৩ দিন সময় লাগে। তবে, ইএমএস এর জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হয়।

বাংলাদেশে ডাকযোগে চিঠি পাঠাতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হলো:
  • চিঠি
  • ডাকটিকিট
  • ঠিকানা
চিঠিটি ভালোভাবে ভাঁজ করে তার উপর প্রাপক এবং প্রেরকের ঠিকানা লিখতে হবে। এরপর, চিঠির উপর ডাকটিকিট লাগাতে হবে। ডাকটিকিটের মূল্য নির্ভর করে চিঠির ওজনের উপর।

ডাকটিকিট লাগানোর পর, চিঠিটি নিকটস্থ ডাকঘরে নিয়ে যেতে হবে। ডাকঘরে চিঠিটি জমা দেওয়ার পর, প্রেরককে একটি বিল দেওয়া হবে। বিলটি পরিশোধ করার পর, চিঠিটি ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো হবে।

পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পার্সেল আনার নিয়ম


 পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পার্সেল আনার নিয়ম

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পার্সেল আনার জন্য নিম্নলিখিত নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে:

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
  • প্রাপক ও প্রেরকের সম্পূর্ণ নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর
  • পার্সেলের ধরন (ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক)
  • পার্সেলের মধ্যে থাকা পণ্যের বিবরণ
  • পার্সেলের ওজন ও পরিমাপ
পার্সেলের জন্য অর্থ প্রদান:

পার্সেলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করতে হবে। 
অর্থ প্রদানের জন্য নিম্নলিখিত বিকল্পগুলি রয়েছে:
  • ডাকঘরে নগদ অর্থ প্রদান: নিকটস্থ ডাকঘরে গিয়ে পার্সেলের জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা যাবে।
  • ডাকঘরে চেক বা পে-অর্ডার প্রদান: চেক বা পে-অর্ডার দিয়েও পার্সেলের জন্য অর্থ প্রদান করা যাবে।
  • অনলাইনে অর্থ প্রদান: বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে পার্সেলের জন্য অর্থ প্রদান করা যাবে।
পার্সেলের ট্র্যাকিং:

পার্সেল পাঠানোর পর, প্রেরক ও প্রাপক উভয়ই পার্সেলের ট্র্যাকিং করতে পারবেন। পার্সেলের ট্র্যাকিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত বিকল্পগুলি রয়েছে:
  • ডাকঘরে গিয়ে ট্র্যাকিং: নিকটস্থ ডাকঘরে গিয়ে পার্সেলের ট্র্যাকিং করা যাবে।
  • ডাক বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে ট্র্যাকিং: বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে পার্সেলের ট্র্যাকিং করা যাবে।
  • মোবাইল অ্যাপ থেকে ট্র্যাকিং: বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মোবাইল অ্যাপ থেকে পার্সেলের ট্র্যাকিং করা যাবে।
পার্সেলের শুল্ক পরিশোধ:

পার্সেলের মধ্যে থাকা পণ্যের উপর শুল্ক প্রযোজ্য হতে পারে। 
শুল্ক পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হলো:
  • পার্সেলের আমদানি সনদপত্র
  • পার্সেলের মূল্য প্রমাণের কাগজপত্র
পার্সেলের গ্রহণ:

পার্সেল পৌঁছানোর পর, প্রাপককে নিকটস্থ ডাকঘরে গিয়ে পার্সেল গ্রহণ করতে হবে।
 পার্সেল গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হলো:
  • পার্সেলের চালানপত্র
  • প্রাপক ও প্রেরকের পরিচয়পত্র
পার্সেলের ত্রুটিপূর্ণতা:

পার্সেলের মধ্যে থাকা পণ্য ত্রুটিপূর্ণ হলে, প্রাপককে তাৎক্ষণিকভাবে ডাকঘরে অভিযোগ করতে হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে, ডাক বিভাগ ত্রুটিপূর্ণ পণ্যটি প্রতিস্থাপন বা ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পার্সেল আনার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলি রয়েছে:
  • ইএমএস (Express Mail Service): ইএমএস হলো একটি দ্রুততম পার্সেল পরিষেবা। ইএমএস এর মাধ্যমে পার্সেল পাঠানোর সময় হলো ২-৩ দিন।
  • এয়ার পার্সেল: এয়ার পার্সেল হলো একটি বিমানযোগে পার্সেল পরিষেবা। এয়ার পার্সেল এর মাধ্যমে পার্সেল পাঠানোর সময় হলো ৩-৫ দিন।
  • সারফেস পার্সেল: সারফেস পার্সেল হলো একটি জলপথে পার্সেল পরিষেবা। সারফেস পার্সেল এর মাধ্যমে পার্সেল পাঠানোর সময় হলো ৭-১০ দিন।
পার্সেলের ধরন ও ওজনের উপর নির্ভর করে, পার্সেলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

পোস্ট অফিসে চিঠি পাঠানোর খরচ

বাংলাদেশে পোস্ট অফিসে চিঠি পাঠানোর খরচ নির্ভর করে চিঠির ওজনের উপর। প্রথম ১০০ গ্রাম পর্যন্ত চিঠির জন্য ৫ টাকা, পরবর্তী ১০০-২০০ গ্রাম পর্যন্ত চিঠির জন্য ৭ টাকা, পরবর্তী ২০০-৩০০ গ্রাম পর্যন্ত চিঠির জন্য ৯ টাকা, পরবর্তী ৩০০-৫০০ গ্রাম পর্যন্ত চিঠির জন্য ১১ টাকা, পরবর্তী ৫০০-১০০০ গ্রাম পর্যন্ত চিঠির জন্য ১৩ টাকা, পরবর্তী ১০০০-১৫০০ গ্রাম পর্যন্ত চিঠির জন্য ১৫ টাকা, পরবর্তী ১৫০০-২০০০ গ্রাম পর্যন্ত চিঠির জন্য ১৭ টাকা, এবং ২০০০ গ্রাম থেকে বেশি ওজনের চিঠির জন্য ১৯ টাকা খরচ হয়।

চিঠির ধরন অনুসারেও খরচের তারতম্য হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, রেজিস্টার্ড চিঠির জন্য ১০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়।

চিঠির জন্য ডাকটিকিট কিনতে ডাকঘরে যেতে হয়। ডাকঘরে গিয়ে চিঠির ওজন পরিমাপ করে ডাকটিকিট কেনা যায়। ডাকটিকিট কেনার পর, চিঠির উপর ডাকটিকিট লাগিয়ে তা নিকটস্থ ডাকঘরে জমা দিতে হয়।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ওয়েবসাইটে চিঠি পাঠানোর খরচের তালিকা পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগ পার্সেল রেট

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে পার্সেল পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পরিমাণ নির্ভর করে পার্সেলের ধরন, ওজন, এবং গন্তব্যের উপর।

পার্সেলের ধরন অনুসারে খরচ:
  • ইএমএস (Express Mail Service): ইএমএস হলো একটি দ্রুততম পার্সেল পরিষেবা। ইএমএস এর মাধ্যমে পার্সেল পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পরিমাণ বেশি।
  • এয়ার পার্সেল: এয়ার পার্সেল হলো একটি বিমানযোগে পার্সেল পরিষেবা। এয়ার পার্সেল এর মাধ্যমে পার্সেল পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পরিমাণ ইএমএস এর চেয়ে কম।
  • সারফেস পার্সেল: সারফেস পার্সেল হলো একটি জলপথে পার্সেল পরিষেবা। সারফেস পার্সেল এর মাধ্যমে পার্সেল পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পরিমাণ সবচেয়ে কম।
পার্সেলের ওজন অনুসারে খরচ:

পার্সেলের ওজন যত বেশি হবে, পার্সেল পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পরিমাণ তত বেশি হবে।

গন্তব্যের উপর নির্ভর করে খরচ:
  • পার্সেলের গন্তব্য যত দূর হবে, পার্সেল পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পরিমাণ তত বেশি হবে।
  • বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ওয়েবসাইটে পার্সেল রেটের তালিকা পাওয়া যায়।

এখানে কিছু নির্দিষ্ট উদাহরণ দেওয়া হল:
  • ইএমএস (Express Mail Service):
  • ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত পার্সেলের জন্য ১৩০০ টাকা,
  • ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত পার্সেলের জন্য ১১০০ টাকা,
  • ঢাকা থেকে চীনে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত পার্সেলের জন্য ৮০০ টাকা।
এয়ার পার্সেল:
  • ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত পার্সেলের জন্য ৯০০ টাকা,
  • ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত পার্সেলের জন্য ৭০০ টাকা,
  • ঢাকা থেকে চীনে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত পার্সেলের জন্য ৬০০ টাকা।
সারফেস পার্সেল:
  • ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত পার্সেলের জন্য ৫০০ টাকা,
  • ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত পার্সেলের জন্য ৪০০ টাকা,
  • ঢাকা থেকে চীনে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত পার্সেলের জন্য ৩০০ টাকা।
পার্সেলের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পরিমাণ নির্ধারণের জন্য, প্রেরককে অবশ্যই নিকটস্থ ডাকঘরে যেতে হবে।
 উপসংহার
পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পার্সেল আনা একটি ভালো বিকল্প, যদি পার্সেলটি ছোট, হালকা এবং নিষিদ্ধ পণ্য না থাকে। তবে পার্সেল পাঠানোর আগে অবশ্যই পার্সেলের ওজন ও আকার, contents এবং শুল্ক ও কর সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত।উপরে আপনাদেরকে বিদেশ থেকে  পণ্য আনার খরচ বলা হয়েছে  ।এ খরচ গুলো অনেকগুলো কারণে বাড়তে বা কমতে পারে তাই পণ্য আনার আগে আরেকবার  পণ্য আনার খরচটি দেখে নিবেন।


পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট