গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির উপায়

গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির উপায়

  গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির উপায় -গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ওজন ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে (১৩ সপ্তাহ পর্যন্ত) বাচ্চার ওজন খুব একটা বাড়ে না। এই সময় বাচ্চার ওজন প্রায় ১০০ গ্রাম থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় তিন মাসে (১৪ থেকে ২৭ সপ্তাহ পর্যন্ত) বাচ্চার ওজন দ্রুত বাড়তে থাকে। 

এই সময় বাচ্চার ওজন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম প্রতি সপ্তাহে বাড়ে। গর্ভাবস্থার তৃতীয় তিন মাসে (২৮ থেকে ৪০ সপ্তাহ পর্যন্ত) বাচ্চার ওজন আরও দ্রুত বাড়তে থাকে। এই সময় বাচ্চার ওজন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম প্রতি সপ্তাহে বাড়ে।

গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ:

  • পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ: গর্ভাবস্থায় মায়ের খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান থাকা উচিত। প্রোটিন গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্বোহাইড্রেট শরীরের শক্তির উৎস। ফ্যাট শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সাহায্য করে। ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান শিশুর বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিকাশে সহায়তা করে। 
  • খাবার পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত গ্রহণ: গর্ভাবস্থায় মায়ের খাবার পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত গ্রহণ করা উচিত। একবারে অনেক খাবার না খেয়ে দিনে ৫-৬ বার ছোট ছোট অন্তরালে খাবার খাওয়া উচিত।
  • জল পান করা: গর্ভাবস্থায় মায়ের প্রচুর পরিমাণে জল পান করা উচিত। জল শরীরের বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে।
  • শারীরিক পরিশ্রম: গর্ভাবস্থায় হালকা শারীরিক পরিশ্রম করা গর্ভস্থ শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত নয়।
  • নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া: গর্ভাবস্থায় মায়ের ওজন এবং গর্ভস্থ শিশুর ওজনের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির উপায়



গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির জন্য কিছু নির্দিষ্ট খাবার বিশেষভাবে উপকারী যেমন:

  • দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার: দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার প্রোটিনের ভালো উৎস। এছাড়াও এতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
  • মাছ: মাছ প্রোটিনের ভালো উৎস। এছাড়াও এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে সাহায্য করে।
  • বাদাম এবং শস্যদানা: বাদাম এবং শস্যদানা প্রোটিন, ফাইবার এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ভালো উৎস।
  • ফল এবং সবজি: ফল এবং সবজি ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং ফাইবারের ভালো উৎস।
গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির জন্য উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলা উচিত।
উপসংহার :গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত জল পান এবং হালকা শারীরিক পরিশ্রম গর্ভস্থ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির জন্য উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে চললে গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যকর বৃদ্ধি ও বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট