চুল ঘন করার উপায় | মাথার চুল ঘন করার উপায়

ঘন আর সুন্দর চুলের আকাঙ্ক্ষা থাকে সবারই। অনেক সময় চুল ঘন হলেও বিভিন্ন কারণে তা ঘন দেখায় না। আবার কখনো চুল পড়ে যাওয়ার কারণে ধীরে ধীরে চুলের ঘনত্ব কমে আসে। তবে এসব প্রতিরোধেও আছে। কিছু সহজ উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে চুল সহজেই ঘন করে তোলা সম্ভব। নিচে সেগুলো তুলে ধরছি।


চুল ঘন করার উপায় | মাথার চুল ঘন করার উপায়



অন্য পোষ্ট - 

জন্মদিনের শুভেচ্ছা স্ট্যাটাস | Happy Birthday Sms Bangla

   বিকাশ লাইভ চ্যাট - Bkash Live Chat


 চুল ঘন করার উপায়



ডিম হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রোটিন। যা চুলকে ঘন করতে সাহায্য করে। একটি ডিমের সাদা অংশ নিয়ে ভালো ভাবে ফেটিয়ে নিতে হবে। তারপর পরিষ্কার চুলে সরাসরি হাত অথবা ব্রাশের সাহায্যে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত লাগাতে হবে। ডিম দিতে গেলে অনেকে চুল জট বেঁধে এলোমেলো হয়ে যায় বলে এড়িয়ে যান। 


চুলে ডিমের সাদা অংশ লাগানোর পর একটি মোটা দাঁতের চিরুনির সাহায্যে সাবধানে চুল আঁচড়ে নিন। তারপর হালকা ঝুটি করে নিন বা শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন। ২০-৩০ মিনিট রেখে নরমাল পানিতে চুল ধুয়ে নিন। এরপর শ্যাম্পু করুন। যেদিন ডিম দেবেন সেদিন আলাদা করে কন্ডিশনার দেবার প্রয়োজন হবেনা।



অ্যালোভেরার জেল বের করে নিন, ৪ চামচ মধুর সাথে মিক্স করে সরাসরি চুলে এবং মাথার তালুতে লাগিয়ে ফেলুন। চাইলে এর সাথে কোনও ট্রিটমেন্ট ক্রিমও যোগ করতে পারেন। চুল ঘন করার সাথে সাথে এটি আপনার চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করবে।


অল্প সময়ে দ্রুত চুল লম্বা ও ঘন করার দারুণ উপায়



চুল লম্বা হয় না, আজকাল অনেকেরই এটাই অভিযোগ। অবশ্য আধুনিক জীবন যাত্রায় এত দূষণ, স্ট্রেস আর পুষ্টির অভাবের মাঝে এটাই তো স্বাভাবিক। চুল সুন্দর রাখতে হলে ভালো মত ঘুমাতে হবে, পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, দুশ্চিন্তা মুক্ত জীবন যাপন করতে হবে, চুল পরিষ্কার রাখতে হবে ইত্যাদি আমরা সবাই জানি। কিন্তু চুল লম্বা করতে হলে কী করতে হবে? হ্যাঁ, আপনি চাইলে আপনার চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারেন কিছু বিশেষ কৌশলে। জেনে নিন দ্রুততম পদ্ধতিতে চুল লম্বা করার অব্যর্থ কৌশল।


ক্যাস্টর অয়েল হচ্ছে চুল ঘন ও এর বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সবচাইতে দারুণ উপায়। ভিটামিন ই এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ এই তেলের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। বরং চুল দ্রুত বড় করতে দারুণ ভূমিকা রাখে এই তেল।

সমান সমান পরিমাণ ক্যাস্টর অয়েল ও নারিকেল তেল/অলিভ অয়েল/ বাদাম তেল ইত্যাদি পরস্পরের সাথে মিশিয়ে নিন রবং চুলের গোঁড়ায় ম্যাসাজ করে লাগান। ৩০-৩৫ মিনিট চুলে রাখুন।


 তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে কমপক্ষে দুবার করবেন। দুবার না পারলে কমপক্ষে একবার। স্ট্রেস কমাতে চাইলে যোগ করতে পারেন কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল।


নিয়মিত মাথার ত্বক ম্যাসাজ করুন



নানী-দাদীরা বলতেন না যে তেল দিলে চুল লম্বা হয়? আসলে কিন্তু তেলে চুল লম্বা হয় না। চুল লম্বা হয় তেল দেয়ার সময় মাথায় যে ম্যাসাজ করা পড়ে। ঠিক সেই কারণে। চুলের গোঁড়ায় ম্যাসাজ করলে এতে মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ফলে চুলের ফলিকল গুলো উদ্দীপিত হয়, চুল পড়া বন্ধ হয় এবং চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। সপ্তাহে কমপক্ষে দুদিন তেল দিয়ে ভালো করে চুলের গোঁড়ায় ম্যাসাজ করুন। 


তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। বাড়তি সুবিধা হিসাবে তেলের কারণে চুলে ডিপ কন্ডিশনিং-এর কাজটাও হয়ে যাবে। চুলে তেল দিতে না চাইলে কেবল আঙ্গুল দিয়েও নিজের মাথার ত্বক ম্যাসাজ করতে পারেন। বা চুলে শ্যাম্পু করার সময়েই ম্যাসাজের কাজ সেরে নিতে পারেন।



চুল ঘন করার ঘরোয়া উপায়



চুল নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকেন মেয়েরাই। এমনও মেয়েদের আপনি খুঁজে পাবেন। যারা চুল ঘন করার জন্য বাজারের কোনো প্রোডাক্টই ব্যবহার করতে বাকি রাখেন নি। কোনটায় হয়তো উপকার পান আবার কোনোটা কাজেই আসে না।

 আবার কোনটা উল্টো ক্ষতিই করে বসে। তাই আসুন আজ চুল ঘন করার জন্য দুটি প্রাকৃতিক উপায় সম্পর্কে জানি যেগুলিতে কোনো প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার চিন্তা নেই। সপ্তাহে মাত্র ২/৩ দিন খানিকটা সময় বের করে নিয়ে নিম্ন বর্ণিত দুটো হেয়ার মাস্কের ব্যবহারেই পেতে পারেন ঘন, কালো ও উজ্জ্বল চুল।



ডিম ও অলিভ অয়েল


চুলের ঘনত্ব ব্রদ্ধির জন্য ডিম ব্যবহার হয়ে আসছে অনেক প্রাচীন কাল থেকেই। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যা চুল পরা রোধ করে। এছাড়া ডিমে আরও রয়েছে সালফার, জিংক, আয়রন, সেলেনিয়াম, ফসফরাস ও আয়োডিন যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে চুলের ঘনত্ব বাড়ায়।


তৈরী করার নিয়ম:


একটি বাটিতে একটি ডিমের সাদা অংশ নিন। এতে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল(জলপাই তেল) ও ১ চা চামচ মধু নিন( চুলের দৈর্ঘ্য ও পরিমাণ অনুযায়ী অলিভ অয়েল ও মধুর পরিমাণ বাড়াতে পারেন)। তারপর উপকরণগুলো খুব ভালো করে মেশান। যখন এটি মসৃণ পেস্টের আকার ধারন করবে তখন এত ব্যবহার উপযোগী হবে। মসৃণ পেস্টের মত হয়ে গেলে মাথার ত্বকে আলতো ঘষে মিশ্রণটি লাগিয়ে ফেলুন। ২০ মিনিট পর প্রথমে ঠাণ্ডা পানি ও পরে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত ১ বার এটি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। ভালো ফল পাবেন।



সরিষার তেল ও মেহেদী পাতা:


সাধারণত চুলে সরিষার তেল একেবারেই ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু সরিষার তেল চুলের গোঁড়া মজবুত করে তুলতে বিশেষ ভাবে কার্যকর একটি উপাদান, যা চুল পড়া রোধ করে দেবে একেবারে। এর পাশাপাশি মেহেদী পাতা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ফলে চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় বেশ কয়েকগুন।



কিভাবে তৈরী করবেন: 



২০০ গ্রাম সরিষার তেল একটি পাত্রে নিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। এবার এতে ১ কাপ পরিমাণ মেহেদী তাজা পাতা দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন। যখন দেখবেন মেহেদী পাতা পুড়ে কালো হয়ে গিয়েছে তখন তা চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে ঠাণ্ডা করে নিন। একটি এয়ার টাইট বোতলে এই তেল সংরক্ষণ করুন। এই তেল সপ্তাহে ৩ দিন চুলে লাগান। সব চাইতে ভালো ফল পাবেন সারারাত চুলে তেল লাগিয়ে রেখে সকালে সাধারণভাবে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেললে।



অপুষ্টি কিংবা অযত্নের কারণে চুল পাতলা হতে শুরু করলে এসব মিশ্রণের যেকোনো একটি বা একাধিকটি নিয়মিত ব্যবহারে আপনার পাতলা চুল ঘন হতে বাধ্য।

তবে সবার ক্ষেত্রে এগুলো সমানভাবে কাজ করে না। আমাদের চুল ঘন হবে নাকি পাতলা হবে অথবা কত বছর বয়স পর্যন্ত ঘন থাকবে । সেসব নির্ভর করে আমাদের হেয়ার ফলিকের উপর, যা জ্বিনগতভাবে পূর্বনির্ধারিত। আশা করব আপনাদের এই পোস্ট থেকে উপকার হবে ।



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url